পাগলা মসজিদের দানভান্ডারে ১২ কেজি সোনা, রূপা ১২ কেজি
![]() |
| রত্নভান্ডারের হিসাবে কর্মকর্তাগন। |
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানভান্ডারে জমা হওয়া সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়েছে। ছয় বছর পর এসব সম্পদ পরিমাপ ও গণনা করে দেখা গেছে, সেখানে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম সোনা এবং ১২ কেজি রূপা জমা হয়েছে। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি খুলে এসব সম্পদ বের করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেগুলো কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে দিনভর চলে বাছাই, পরিমাপ ও গণনার কাজ।
নয়টি কন্টেইনারে রাখা সোনা ও রূপা এবং ছয়টি সিলগালা খামে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য। এ কাজে জেলা প্রশাসন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার অংশ নেন।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ সোনা ও রূপার পরিমাণ নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, গণনা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এসব মুদ্রার গণনা শেষ করতে আরও সময় লাগবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোনা ও রূপার বাজারমূল্য নির্ধারণের পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
পাগলা মসজিদের দানবাক্স সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। এ সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-রূপাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। নগদ অর্থ গণনা করে দ্রুত হিসাব প্রকাশ করা হলেও মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।
সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ সোনা ও রূপার হিসাব করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রূপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে আয় হয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত মসজিদের দানবাক্স ১৮ বার খোলা হয়েছে। তবে এবারই প্রথম এসব সোনা-রূপা পরিমাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এর বাইরে মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদটি দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসেন এবং দান করেন। এসব অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
This theme has been developed by OURISLAMBD.