[ourislambdSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

পাবনায় নারী ও শিশু আদালত বর্জন, বিচারকের অপসারণ দাবি

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
অ+ অ-

পাবনা জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে বিচারপ্রর্থীদের ভীড়।

পাবনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনজীবীরা। বিচারকের আচরণ ও আদালত পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের কথা জানিয়ে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন তাঁরা। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা প্রধান বার ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বুধবার থেকে আগামী ১৭ অক্টোবর রবিবার পর্যন্ত আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুর-ই-আলম জিকো ও আইনজীবীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ চলছিল। আইনজীবীদের অভিযোগ, বিচারক একাধিকবার তাঁদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেছেন। আদালত পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তাঁদের আপত্তি রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।


গতকাল ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রধান বার ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্তের ফলে আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। সকাল সারে ১১টায় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন বিচারক নীর-ই-আলম জিকো। তবে এসময় এজলাসে পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল ও নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন  শাহীন উপস্থিত থাকলেও অন্যসকোন আইনজীবীকে এজলাসে দেখা যায় নাই  এ সময় আদালতের বারান্দায় অনেক বিচারপ্রার্থীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মামলার শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য আদালতে এসেও তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। আদালত বর্জনের কারণে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


আইনজীবীদের অভিযোগের পাশাপাশি বিচারকের দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়েও আদালতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, বিচারক নুর-ই-আলম জিকো আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। কোনো পক্ষের অনুরোধ বা প্রভাবের বাইরে থেকে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করায় কিছু আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।


আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পাবনা জেলা জজ আদালতের মোট মামলার ৩০ শতাংশ স্পর্শকাতর মামলা বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হয়ে থাকে। এসব মামলায় আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিচারকের দায়িত্ব হলো আইন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত দেওয়া। বিচারিক কাজে কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ম এড়িয়ে চলা বিচারকের দায়িত্বের অংশ।


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর সঙ্গে ভুক্তভোগী, তাঁদের পরিবার ও সাক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের আশায় তাঁদের দীর্ঘদিন আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। নির্ধারিত দিনে শুনানি না হলে কিংবা বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তাঁদের সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের জন্য এ ভোগান্তি আরও বেশি।


বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে তা নিরসনের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। একদিকে বিচারকের আচরণ নিয়ে আইনজীবীদের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিচারিক দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো বিচারককে চাপের মুখে ফেলার অভিযোগ উঠলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


কারণ, আদালতের কার্যক্রম সচল রাখা শুধু বিচারক বা আইনজীবীদের পেশাগত বিষয় নয়। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সরাসরি জড়িত।


পাবনা জেলা এ্যাডভোকেট বারের সভাপতি এ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, বিচারকের আইন বর্হিভূত সিদ্ধান্ত ও আইনজীবীদের সাথে অসদাচরণের কারনে তার আদালত বর্জন করা হয়ছে।


তবে এজলাসে থাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর নাজমুল হোসেন শাহীনের বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।

This theme has been developed by OURISLAMBD.
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন