পাবনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, ৩ দিন আগে ছাত্রদল নেতার অস্ত্র হাতে মহড়া
![]() |
| স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা শরিফুল ইসলাম। |
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে কয়েকজন শরীফের প্রাইভেটকারের গতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা গুলি ছোড়া হলে গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন তিনি। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফুল ইসলাম শরীফের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি ঈশ্বরদী থানায় নিয়ে যায়। তবে হামলার সঙ্গে সরাসরি কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত শরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম শরীফের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবীবের বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাবিবুর রহমান হাবীবকে উদ্দেশ করে শরীফ ‘কত টাকায় সভাপতির পদ বেচলেন’ এমন মন্তব্য করে একটি স্ট্যাটাস দেন বলে জানা গেছে।
তবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে শরীফের ওপর হামলার ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে শরীফের ওপর হামলার মাত্র তিন দিন আগে ঈশ্বরদীতে সাবরক ছাত্রদল নেতা হুপো বাপ্পি মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন। গত ১৭ আগস্ট ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ ছাত্রদল নেতা বাপ্পিকে আটক করে। পরে জানা যায়, তার প্রদর্শন করা আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্স করা। এই কারণ দেখিয়ে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর মাত্র তিন দিনের মাথায় একই এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরপর এসব প্রকাশ্য ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে আগের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধ এবং শরীফের ওপর হামলার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
